অনুপ্রেরণা

ইচ্ছেশক্তিই সব

ইচ্ছেশক্তিই সব

আপনিকি নিজেকে দূর্ভাগ্যমান মনে করেন ?

আপনার এমনটা মনে হয় যে আপনিই পৃথিবীর সব থেকে দূর্ভাগ্যমান ব্যাক্তি?

এমনকি এই সময়টুকুতে আপনার এটাও মনে হয় যে আমিই মনে হয় একমাত্র ব্যাক্তি যার সাথে বিধাতা খারাপ ব্যবহার করছে । মনে হয় যেন দম বন্ধ হয়ে আসছে, বেঁচে থাকতে আর ভালো লাগছে না । জীবনের অর্থও মিল করা যাচ্ছে না । হাজারটা সমস্যা এসে দাঁড়াচ্ছে । একটা সলভ হয় তো আরেকটা চলে আসে । সব শেষ আর কিছুই হবে না । আরে ভাই অনেক ভেবেছেন আর নয় কারন আজ এমনই একটা ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করব যেটা শোনার পরে আপনিও বলবেন “আমি কেন পারবো না ?” ।

1938 সাল । হাঙ্গেরিয়ান আর্মির এক মহান ব্যাক্তিত্ব “Karoly Takacs”। তিনি যে শুধু আর্মি ছিলেন তা নয় সেই দেশের সমস্ত ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড জয়ী পিস্তল শুটারও ছিলেন । সেই দেশের সবার ভরসা ছিলো 1940-তে যে অলিম্পিক হবে, তাতে গোল্ড মেডেল “Karoly Takacs”-ই পাবে । তিনি একবছর ধরে ট্রেইনিং করেন । তার একটাই সপ্ন ছিলো একটাই ফোকাস ছিলো যে তার হাতকে ওয়ার্ল্ড এর বেস্ট শুটিং হ্যান্ড বানানো এবং অনুশীলনের ফলে সে নিজের হাতকে বেস্ট বানিয়ে ফেলে । কিন্ত হটাৎ ই একটা দূর্ঘটনা ঘটে যায় সে যেহেতু আর্মিতে ছিলো তাই আর্মি ক্যাম্প চলাকালিন তার হতে হ্যান্ড গ্রেনেড ফেঁটে যায়, তার ডানহাত নষ্ট হয়ে যায় যে হাতে তার গোল্ড মেডেল জেতার কথা ছিলো । তার সপ্ন তার ফোকাস সব শেষ হয়ে গেল । যেটা নেই তাকে নিয়ে আর না ভেবে যেটা তার কাছে আছে সেটা নিয়ে আবার উঠে দাঁড়ালেন । তার কাছে কি ছিলো একটা বাঁ হাত যেটাতে সে লিখতে পর্যন্ত পারত না । ডান হাতের জন্য একমাস ধরে ট্রিটমেন্ট হয়, ঠিক তার একমাস পরে তিনি আবার ট্রেইনিং শুরু করেন বাঁ হাত দিয়ে । ট্রেইনিং এর একবছর পর 1939-এ তিনি যোগ দেন ন্যাশনাল পিস্তল শুটিং কম্পিটিশনে । ডান হাত দিয়ে কম্পিট করা প্রতিযোগিদের সবাইকে হারিয়ে বাঁ হাতের মাধ্যমে তিনি ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ান হন । তিনি এখানেই থেমে থাকেননি তার জেদ ছিলো যে তার হাতকে দুনিয়ার বেস্ট করতে হবে, বেস্ট করতে হবে এন্ড বেস্ট করতে হবে । তার সপ্ন ছিলো অলিম্পিকের গোল্ড মেডেল । তিনি একবছর ধরে ভীষন কষ্ট ও ভীষন মেহেনত করে অনুশীলন করেন 1940-র অলিম্পিকের জন্য । কিন্তু ‍দূর্ভাগ্য বশত, 1940-র অলিম্পিক কেন্সেল হয়ে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য । কিন্তু তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে পরবর্তী অলিম্পিকের জন্য নিজেকে তৈরি করতে থাকেন যেটা হওয়ার কথা ছিলো 1944-এ । কিন্তু 1944-র অলিম্পিকও কেন্সেল হয়ে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জন্য । তিনি তার সমস্ত ফোকাস দিয়ে দেন 1948-এর অলিম্পিকে । এতদিনে তার বয়স হয়েছে 38 বছর । যেখানে তার কম্পিটিটর ছিলো বিশ্বের বিখ্যাত বিখ্যাত অল্প বয়সী পিস্তল শুটার যারা কম্পিট করবে তাদের বেস্ট হ্যান্ড দিয়ে । কিন্তু Impossible নামক কোনো শব্দই ছিলো না তার ডায়েরিতে । তাই সবাইকে হারিয়ে অলিম্পিকের গোল্ড মেডেল জিতে নেন । “দ্যা ম্যান অফ অনলি হ্যান্ড Karoly” । কিন্তু তিনি তাও খ্যান্ত ছিলেন না 1952-তে আবারো জয়ী হোন অলিম্পিকে এবং ওয়ার্ল্ডের হিস্টরি বদলে দেন পর পর দুবার গোল্ড মেডেল জিতে । কারন এই পার্টিকুলার কম্পিটিশনে এর আগে কেউ পর পর দুবার গোল্ড মেডেল জিতেননি ।

আপনি যেকোনো লুজারের কাছে লিস্ট পেয়ে যাবেন অজুহাতের, বাহানার যে আমি এইজন্যই ফেল হয়েছি এইজন্য কিছু করতে পারিনি, আমার জীবনে অনেক সমস্যা ছিলো । অন্যদিকে যেকোনো উইনারের কাছে যান, তার কাছে হাজারটা কারন ছিলো তার সপ্নকে বাস্তব না করার কিন্তু একটা কারন ছিলো সেটা করার আর সে সেটা করে দেখিয়েছে ।

moneyBag24 Ads.bag

তাই আপনি যেটাকে দূর্ভাগ্য বলছেন, সেটা আসলে মনের দূর্ভলতা এবং যে জিনিষের জন্য আপনি দূর্বল হয়ে পড়ছেন, সেটাকেই আপনি আপনার অস্ত্র বানিয়ে নিতে পারেন এবং নেমে পড়ুন জীবনযুদ্ধে । “EVERYTHING IS POSSIBLE” । আপনি চাইলে সব কিছু করতে পারেন কারন আপনিই সুপার হিউম্যান ।

2 / 100 SEO Score

moneyBag24 Ads.bag
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close

Adblock detected

Ad blocker বন্ধ করুন।
%d bloggers like this: